কাঁকুড় বা কাঁকড়ি (বৈজ্ঞানিক নাম: Cucumis melo var. flexuosus) হচ্ছে শসা পরিবারের কিউকামুস গণের একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ প্রজাতি। এটির ফল ভক্ষণযোগ্য। এদের বেশ কয়েকটি ঔষধি গুনাগুণ রয়েছে।
কচি কাঁকুড় অনেকে কাঁচাই খান নুন দিয়ে। অনেকে খান সালাড তৈরি করে। অনেকে বা রান্না করেন তরকারি। কচি কাঁকড়ির ছাল পাতলা করে ছাড়িয়ে লম্বা লম্বা ভাবে চিরে নিয়ে এবং টুকরা করে কেটে নুন, গোলমরিচ, বিট নুন মাখিয়ে খেতে ভাল লাগে। কোরানা কাঁকড়ি (কুরুনি দিয়ে কুরে নেবেন) টক দই, সর্ষে খুঁড়া, আন্দাজ মতো নুন ইত্যাদি মিশিয়ে রায়তা তৈরি করে নেওয়া যায় যা খেতেও ভাল, শরীরের পক্ষেও ভাল।
কাঁচা কাঁকড়ি শরীরের জন্য ভালো:
কাঁকুড় বীজের শাঁস থেকে ওষুধ তৈরি হয়। মানসিক ব্যাধিতে এই বীজ খুব উপকারে লাগে। গমের আটার রুটি বা ময়দার লুচি পরোটা, জোয়ারের (এক রকম শস্য) রুটি, মক্কা অথাৎ ভুট্টার আটার রুটি (পঞ্জাবের বিখ্যাত মকাই কী বোটি) অড়হর, মুগের ডাল, কলাইয়ের ডাল বা বিউলির ডাল মাছ মাংস প্রভৃতির গুরুভোজনের পর যে বদহজম বা হজমের গোলমাল হয় কাঁকড়ির স্যালাড (কচুমর) খেলে তার উপশম হয়। এই স্যালাড় বা কচুমর ভোজনের সঙ্গেও খাওয়া যায় বা পরেও খাওয়া যায়। দু রকম ভাবে খেলেই উপকার পাওয়া যায়।
যদি বদহজমের জন্যে বমি হতে থাকে তাহলে কাঁকড়ির বীজের শাঁস দইয়ের ঘোল দিয়ে পিষে খাওয়ালে আরাম হয়। পিত্তের অসুখে, শরীর জ্বালা করায়, পিপাসায়, মূত্রকৃচ্ছতায় অর্থাৎ প্রস্রাব কম হলে, পাথরি রোগে ওষুধ হল কাঁকড়ির বীজের গর্ভ বা শাঁস। কাঁকড়ির রস চার বা পাঁচ চা চামচ বা কাঁকড়ির বীজের শাঁস ১ চা চামচ খাওয়ানো যেতে পারে।
কাঁচা কাঁকড়ি তৈল বর্জিত অর্থাৎ রুক্ষ, মলরোধক, মধুর, ভারী, রুচিকারক ও পিত্ত নাশ করে। পাকা কাঁকড়ি তৃষা ও পিত্ত বাড়িয়ে তোলে কিন্তু খিদেও বাড়ায়। কাঁকড়ির মূল বা শিকড় মলরোধ করে ও শীতল। আয়ুর্বেদের মতে এগুলিই হল কাঁকড়ির গুণাগুণ।
সুস্থ থাকতে কাঁকড়ির ব্যবহার:
১. কাঁকুড় ছোট ছোট টুকরা করে কেটে, চিনি ছড়িয়ে খেলে উষ্ণতার জন্যে যে দাহ তা দূর হয়।
২. কাঁকড়ির টুকরাতে চিনি দিয়ে খেলে শরীরের গরম দূর হয়।
৩. মেয়েদের শ্বেতপ্রদরে এড়ির বীজের শাঁস ১ চা চামচ এবং পেষা সাদা পদ্মফুলের কুঁড়ি ১ চা চামচ করে মিশিয়ে সাত দিন ধরে খেলে রোগ কমে।
৪. কাঁকড়ির রস ও পাতিলেবুর রস এক সঙ্গে মিশিয়ে তাতে অল্প জিরে গুঁড়া ও চিনি মিশিয়ে খেলে প্রস্রাবের জ্বালা সারে।
৫. কাঁকড়ির বীজের শাঁস, জিরে আর চিনি একসঙ্গে পিষে জলে গুলে নিয়ে খেলে মূত্রাঘাত অথাৎ মূত্র ত্যাগ করতে গিয়ে বেদনা হয় তা সেরে যায়।
৬. কাঁকড়ির বীজের শাঁস, যষ্ঠিমধু ও দারুহলদীর (কবিরাজি দোকানে পাওয়া যায়) গুঁড়া যদি ভাতের ফ্যানের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায় তাহলে মূত্রকৃচ্ছতা অথাৎ প্রস্রাব কম হওয়ার কষ্ট দূর হবে এবং প্রস্রাব করতে গিয়ে যদি যন্ত্রণা হয় ও পারবে।
বৈজ্ঞানিক মতে: কাঁকড়ি শরীর ঠাণ্ডা কয়ে (শীতল), হজম হয় তাড়াতাড়ি (পাক), প্রসাব করায় (মূল)। শরীরের অঙ্গ বৃদ্ধি করে। কাঁকড়ির পাতার ছাই ক-নিঃসারক অথাৎ শরীর থেকে জমে থাকা কফ বের করে সারিয়ে তোলে।
আলোকচিত্র: কাঁকুড় ফলের আলোকচিত্রটি তুলেছেন Vagr7
তথ্যসূত্রঃ
১. সাধনা মুখোপাধ্যায়: সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাকসবজি মশলাপাতি, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, নতুন সংস্করণ ২০০৯-২০১০, পৃষ্ঠা,১১৮-১১৯।
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে” এবং যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।
সুন্দর গুছানো একটা লেখা। নতুন তথ্য জানানোর জন্য অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকুন।